রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ০৭:৪৭ পূর্বাহ্ন
*প্রথম তদন্তকারী কর্মকর্তাকে
ত্রুটিপূর্ণ তদন্তের জন্য আদালতের ভর্ৎসনা
*দুর্ঘটনা বলা হলেও মোটরসাইকেল, ভিকটিমের
মোবাইল, ঘড়ি অক্ষত
*মোটরসাইকেল চালক, পেছনে
থাকা ব্যক্তি, মটর সাইকেল অক্ষত, শুধু মাঝখানে থাকা ব্যক্তি মারা গেল? তিনজনের
দুইজনের কিছু বলো না। শুধু ১ ? ৩
বিশেষ সংবাদদাতা:
চট্টগ্রামের জয়দীপ দাশ হত্যা
মামলাটি এবার গেছে পুলিশের তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) হাতে। এর আগে থানা পুলিশ
এবং পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেষ্টিগেশন (পিবিআই) তদন্ত করে চুড়ান্ত রিপোর্ট জমা দিলেও আদালত তা ত্রুটিপূর্ণ বলেছেন।
তারই প্রেক্ষিতে ১০ সেপ্টেম্বর মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।২০২১ সালের ৩০ নভেম্বর রাতে চট্টগ্রাম নগরীর নুপুর মার্কেটের সামনে জয়দীপকে খুনের অভিযোগে ২০২২সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি আদালতে মামলা করেন তাঁর মা জয়শ্রী পাল। মামলায় সহিদুল ও অনিরুদ্ধ বড়ুয়া উষান নামে দুই জনকে আসামি করা হয়।
এদিকে একনং আসামী গ্রেফতারের পরপরই জিজ্ঞাসাবাদ না করে ২৭ দিন পর রিমান্ডে নেওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে।
ঘটনাস্থলের একাধিক স্থানের সিসি ফুটেজ থাকলেও পুলিশ তা সংগ্রহ করেনি। ঘটনাস্থলে ক্যামেরা নেই অজুহাতে দায় সেরেছে তদন্ত সংস্থা।এমন দায়সারা তদন্ত করায় প্রথম তদন্ত কর্মকর্তাকে ভর্ৎসনাও করেন বিচারক। ২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর কোতোয়ালি থানা পুলিশের এসআই আব্দুল লতিফ আদালতে প্রথম চুড়ান্ত রিপোর্ট জমা দিয়েছিলেন। শুনানি শেষে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিসেট্রট মেহনাজ রহমানের আদালত ত্রুটিপূর্ণ রিপোর্ট দাখিল করায় এসআই লতিফকে ভর্ৎসনা
করেন।দ্বিতীয় দফা তদন্ত শেষে পিবিআই ইন্সপেক্টর কাজী এনায়েত কবির ২০২৪ সালের ৩১ মার্চ আদালতে ফের রিপোর্ট জমা দেন। এবারও ভুয়া আলামত উপস্থাপন, কথিত ট্রাক শনাক্ত করতে না পারাসহ ত্রুটিপূর্ণ রিপোর্ট দাখিল করায় ১০ সেপ্টেম্বর মামলাটি সিআইডিকে ফের অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেন আদালত।
এদিকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত সহকারী বিপ্লব বড়ুয়া আসামীদের পক্ষ নিয়ে মামলায় প্রভাব বিস্তারের কারণে পুলিশ ও পিবিআই প্রকৃত
ঘটনা আড়াল করেছেন বলে অভিযোগ তোলেন মামলার বাদী জয়শ্রী পাল। এইদিকে সিআইডির ইন্সপেক্টর মোশারফ হোসেন বলেন, এখন পর্যন্ত ভিকটিম মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মারা গেছেন বলেই মনে হচ্ছে। তবে কথিত ট্রাকের ধাক্কায় নিহত হয়েছে বলে বলা হলেও
সেইটি এই পর্যন্ত চিহ্নিত করা যায়নি। অন্যদিকে বলা হচ্ছে খুনের কোন আলামত পাচ্ছি না। বাদী জয়শ্রী পাল বলেন, জয়দ্বীপকে পরিকল্পিত ভাবে দুই বন্ধু মিলে খুন করে প্রকৃত ঘটনা ধামাচাপা দিতে নাটক সাজিয়েই
যাচ্ছে। থানা পুলিশ ও পিবিআই তদন্তের নামে ঘটনা ভিন্নখাতে নিয়ে গেছে। দুর্ঘটনার কথা বলা বললেও ট্রাক জব্দ ও চালককে যদি আমাদের সামনে আনতে
পারতেন, মেনে নিতাম এটি খুন নয়, দুর্ঘটনা। প্রথম তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আব্দুল লতিফ বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ায়

সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ বা মোটরসাইকেল জব্দ করিনি।
আদালতের কোন ভর্ৎসনা নিয়ে কোন মন্তব্য করব না। অপরদিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল এমারজেন্সিতে বহনকারী সিএনজি, সাথে থাকা অনিরুদ্ধ বড়ুয়া উষান, ড্রাইভারসহ কাউকে আটক না করায়, বাদী সন্দিহান হয়ে পরেছে বলে জানিয়েছেন। বাদী অনেক তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করে দিয়েছেন। আদালতের পর্যবেক্ষণ ও ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনায় দেখা গেছে, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় জয়দ্বীপ মারা গেছে দাবি করা হলেও ভিডিও ফুটেজে ঘটনার পর মোটরসাইকেল পুরোপুরি অক্ষত দেখা গেছে। দুর্ঘটনার শিকার ওই মটরসাইকেলটি চালিয়ে আসামী চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও
গেছেন। ভিকটিমের মোবাইল ও ঘড়ি অক্ষত থাকায় দুর্ঘটনার বিষয়টি প্রবল সন্দেহের সৃষ্টি করছে। মোটরসাইকেলে তিনজনের মাঝখানে থাকা জয়দ্বীপ মারা গেলেও সামনে পেছনে থাকা অপর দুই আসামি
কোন আঘাত পাননি। তাদের একজন সিএনজি যোগে জয়দ্বীপকে নিয়ে হাসপাতালের এমারজেন্সির সামনে গিয়েছেন তা ভিডিও ফুটেজে স্পষ্ট। মটর সাইকেল চালক একনং আসামীও মটর সাইকেল চালিয়ে হাসপাতালে গিয়েছেন। হাসপাতালের ভিডিও ফুটেজে তাদের দুজনকে স্বাভাবিক হাঁটাচলা করতে দেখা গেছে। আদালত পর্যবেক্ষণে আরো উল্লেখ করেন, জয়দ্বীপের শরীর
রক্তে রঞ্জিত এবং আঘাতের মাত্রা দেখে মটর সাইকেলটি দুমরেচুমরে যাওয়ার কথা। তদন্তকারী কর্মকর্তা মটর সাইকেল জব্দ করেননি।অপরদিকে মোটরসাইকেলটি
মামলার গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে জব্দ করা উচিত ছিল। আসামি দুইজন ছিলেন কথিত ঘটনার মুলে। আর প্রত্যক্ষদর্শী, স্বাক্ষি/জড়িত। ঘটনার দিন রাতে কি হয়েছিল তা দুই আসামিই সবচেয়ে সঠিকভাবে বলতে পারবেন। অথচ আসামিদের তদন্তের আওতায় আনা হয়নি।
এই মামলার তদন্তে তথ্যগত ও পদ্ধতিগত অনেক ক্রটি রয়েছে বলে আদালত মনে করেন।
আপনার মন্তব্য লিখুন